সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২০

স্বার্থ সর্বনাশা স্বার্থ


মোলায়েম তৃণকে ভরিয়ে দেয় হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসার বিন্দু বিন্দু শিশির।এই পরিষ্কার জলের মত শিশিরের কারুকার্যে থাকে নবীন ঘাসের স্বচ্ছ সবুজতা আর থাকে নির্মল আকাশের নীলাভ অঞ্জলী মাখা স্বার্থ। এই স্বার্থকে সবাই স্বাগত জানায়। কিন্তু হীন জীবন চলার পথে এই স্বার্থ আরো হীন থেকে হীনতার দ্বারে এসে দাঁড়ায়।ধরনিকে করে তোলে কালো আর নোংরাময়।

হায়রে স্বার্থ পিতা-মাতার প্রথম প্রণয়ের অঞ্জলী মেখে যেমানব শিশু ধরনীর বুকে নিবাস গড়তে গিয়েছিলে  সেই শিশু বয়োঃবৃদ্ধির সাথে সাথে হয়ে উঠলো বিভীষিকাময়। এত চাওয়া, এত পাওয়া। কোনভাবেই সে তৃপ্তি পায় না।
চাওয়া পাওয়ার এত বড় কদার্য স্পৃহা গোটা বিশ্বকে কলঙ্কময় করে দিল। জীবন পাতার প্রতিটি অধ্যায়ে কালি লেপে দিল। বিশ্ব তার বিবেক হারিয়ে ফেললো।

স্বার্থ তুমি আসলেই সর্বনাশা। তোমার কোন জুড়ি নেই, আছে শুধু শোষন আর অযৌক্তিক শাসন। তুমি মহা সাইক্লোন, তুমি ভেঙে ফেল আদর্শের ভূষণ। তোমাকে নিয়ে লেখার ভাষা নেই। ভাষাহীন হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। ধূসর হয়ে পড়েছে জীবনের আলপনা।

শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২০

আমিত্ব

হে আমার আমিত্ব তোমাকে উপলব্ধি করে আমি বুঝতে পেরেছি আমি কতটায় নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে আছি। কি করবো বলো? আমার কাজল কালো চোখের কালো আঁচড়ে কত না জানা কথা জানালাম। কাজল কালির অক্ষরে শব্দ ছিল না, ছিল কেবল হৃদয়ের উত্তাল ঢেউ। এই ঢেউয়ের শব্দে আমার পৃথিবী আবৃত হয়ে আছে।

আমি এই পৃথিবীর বাসিন্দা। আমার অনুভূতিই আমার সম্পদ। এই সম্পদই হচ্ছে মূলধন। এই মূলধন এমনভাবে লুকিয়ে আছে যে তা কেউ দেখতে পায় না। যদি কেউ দেখতে পেত তাহলে সেটা পৃথিবীতে এক বিকট আওয়াজের সৃষ্টি করত। এই মূলধন দেখতে পান শুধু স্রষ্টা। সৃষ্টির এই মূলধনই হচ্ছে স্রষ্টার সান্নিধ্য।
হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে যে ঢেউ এর সৃষ্টি হয় সে ঢেউকে কেউ অবরূদ্ধ করতে পারে না। এ ঢেউ আদি থেকে অনন্ত কাল পর্যন্ত চলতে থাকে। এ চলার কোন বিরতি নেই।

এই আমিত্ব জীবন চলার পথে প্রথম ছন্দ। ছন্দের পতন হয় জীবন পাতার অযৌক্তিক কদর্য স্পৃহায়। এই সেই কদর্য স্পৃহা যা কলুষিত করে দেয় জীবন আঙিনাকে।

ধূলিকণা

হে ধূলিকণা! আমি তোমাকে দেখে অবাক হচ্ছি। পৃথিবীর বুকে কত স্পৃহা, কত পদাচরণ, কত আশা, আকাঙ্ক্ষা, ন্যায়, অন্যায়, দাম্ভিকতা, কত উদারতা, মানবতা, নিষ্ঠুরতা, অসহায়তা সবকিছুর মিশ্রণে তুমি মিশ্রিত হয়ে আছো। তোমার উপরে নীল আকাশ আর তুমি বিছিয়ে রেখেছো পৃথিবীর মহাসনদ।

এই মহাসনদের দায়িত্ব তোমার উপর। তুমি বারবার জানাচ্ছো এই পৃথিবীর যত কিছুই থাকুক না কেন সব কিছুকেই ধূলিকণার সাথে মিশে যেতে হয়। পৃথিবী অবুঝ- সে বুঝতে পারে না, বোঝাতে পারে না।

পৃথিবী এই মঞ্চে যে দোলনা ঝুলিয়ে রেখেছে সেই দোলনায় মানব মানবীরা দোদুল্যমান হয়ে ঝুলছে। দোলনাকে অসীম আকাশ ছুঁতে বলছে যেন বিশ্ব তাদের জয়ের প্রতিযোগিতায় হার না মানে। হায়রে অবাক মানব আত্মা, তোমার গ্লানিকর অধ্যায় গোটা বিশ্বকে পীড়িত করে ফেলেছে। তুমি জেনেও না জানার ভনিতা করে আছো। তোমার অহংকার, তোমার ঐশ্বর্য, প্রাচুর্য, তোমার দীনতা, হীনতা সব কিছুই ধরনীর বুকে ধূলা হয়ে মিশে যায় মহাকালের আবর্তনে। আর সাক্ষী হয়ে রয়ে যায় ঐ ধূলি যে কিনা পৃথিবীর ঊষালগ্ন থেকে বিরাজমান।