রবিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২১

ব্যাথা

 আমার অন্তরের অন্তঃস্থলে যে গভীর ব্যাথা লুকিয়ে আছে তাকে দেখতে যেয়ে হারিয়ে গেলাম হৃদয়ের বহুদূরে। সেখানে নিজেকে তলিয়ে দেখলাম ব্যাথার বাদ্যযন্ত্রের কঠিন সুর আমার কর্ণে হাহাকার শব্দে অবিরত বেজে যাচ্ছে।

আমার আরতি তাকে নিয়ে যে আমায় ভরিয়ে দিল চোখের নোনা জলের বৃষ্টিতে। এই বৃষ্টিতে শিক্ত হয়ে ফুল ফুটে উঠল হৃদয় উদ্যানে। তাকে তো আমায় স্বাগত জানাতে হল।

হায় ব্যাথা! তোমার পিচ্ছিল সিঁড়িতে আমি আমার পা রাখলাম। আমার পা দুটো কি ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবে তোমার পিচ্ছিল সিঁড়িতে যেমন প্রকৃতি তার ভারসাম্য রক্ষা  করে প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ে? তার গতিবেগের ঝংকারে প্রকৃতি নিজেকে সামলে রাখে।


রবিবার, ৬ জুন, ২০২১

ভুল

 ভুল আর ভুল। ভুলের মাশুল দিতে হয় অযৌক্তিক ভাবে। তা যে কতটা ঘৃণিত ভুক্তভোগীরাই জানে। চলার পথে প্রথম সিড়িতেই ভুল। সেই ভুল থেকেই বৃহৎ ভুলের জন্ম।

পৃথিবীর এত সৌন্দর্য তা উপলব্ধি করাটাও ভুল। ক্লান্ত হয়ে গেছি। আমি যেখানে আছি সেটাও ভুলের কাঁটায় কাঁটায় ক্ষত বিক্ষত আবাস। কোন কিছুই মনে হচ্ছে না সত্য। সব যেন প্রহসন।

নিজেকে গুটিয়ে রাখাটাই মনে হয় যুক্তিসঙ্গত। সেটাও যে কতদূর সঠিক তাও জানি না। বিষবৃক্ষের শিকড় জীবনের মহাসত্যে ফাটল ধরিয়ে দেয় ।

বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সত্য মিথ্যার খেলা

সত্য তুমি কোথায়? তোমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি পৃথিবীর সব স্থানে। কিন্তু তোমার সেই উদ্ভাসিত আলোর কিরণ ছটা দেখতে পারছি না। হায় সত্য তুমি লুকিয়ে রেখেছো নিজেকে নাকি আমরা তোমাকে সরিয়ে রেখেছি? এই প্রশ্ন রাখছি বিশ্বের কাছে।

মিথ্যার বেসাতি নিয়ে আমরা পসরা সাজিয়ে রেখেছি। মিথ্যার এত জৌলুস, এত রং, এত তার বাজনা যা ভরিয়ে রেখেছে গোটা বিশ্বকে। তাই বিশ্বের মাঝে সত্যের ধ্বনি হুঙ্কার দিয়ে উঠছে না। এত জঞ্জাল, এত কাঁটা তাকে আবডাল করে ফেলেছে! কিভাবে তাকে সরানো যাবে জানি না। কারন বিবেক তো মিথ্যার মোড়কে আবৃত হয়ে আছে। 

হায়রে বিবেক! সবকিছু জলাঞ্জলি দিলে মিথ্যার কাছে। মিথ্যার বিষাক্ত আবরণ সত্যের প্রকাশভঙ্গি রূদ্ধ করে রেখেছে। 

হায় মিথ্যা! তোমার বিষাক্ত সিলমোহর ভেঙ্গে একদিন না একদিন সত্য তার স্বরূপে উন্মোচিত হবে। সত্যের আলোর ঝলকানিতে তোমার মেকি মুখোশ পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।



সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০

শিংওয়ালা ছাগল

বাবা এখন অনেক রাত । আমার ঘুম আসছে না। তোমাকে না পাওয়ার শূন্যতায় ব্যাথা পাই। বাবা সেই লোভী শিয়ালের গল্পটা মনে পড়ে যায়।

লোভী শিয়ালটা পথ চলতে চলতে বুড়ি, শাক, গরু, কৃষক সবাইকে খেয়ে ফেলে আর সে তার মস্ত বড় পেটটা দুলিয়ে দুলিয়ে মনের সুখে গান করতে থাকে- বুড়ি খেলাম, শাক খেলাম, কৃষক খেলাম, গরু খেলাম, আরও আরও খাব যা পাব। যখন ছাগল কে খাওয়ার পালা আসল, তখন ছাগল বুদ্ধি খাটিয়ে কামাল বাড়ি যেয়ে তার শিং দুটোতে ধার দিয়ে নিয়ে আসল। এরপর শিয়াল যখন তাকে খেতে গেল তখন ছাগল শিং দিয়ে শিয়ালের পেটটা ফুটিয়ে দিল আর বুড়ি, শাক, কৃষক, গরু সবাই বেঁচে বেরিয়ে আসল। আর লোভী শিয়ালটা চিরতরে ধ্বংস হয়ে গেল। সাহসী ছাগল কে  সবাই ধন্যবাদ জানাল। 

বাবা বর্তমান পৃথিবীর কদার্য লালসা ঐ লোভী শিয়ালের মত। কবে ঐ রকম সাহসী ছাগল আসবে পৃথিবী কে বাঁচাবার জন্য? পৃথিবীর নিঃশ্বাস রূদ্ধ হয়ে যাচ্ছে লোভের তাড়নায়। আর কতদিন? আর কতদিন? কবে আবির্ভাব হবে ঐ ছাগলের- সেই অপেক্ষায় রইলাম।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২০

বিরহ

বিরহ তুমি প্রেমের গভীর অন্তরালের সুকঠিন ধ্বনি। তুমি প্রেমের লীলার মাঝে ব্যাথা বঞ্চনার চোখের নোনা জলের বৃষ্টি। তুমি ব্যাথা বেদনার গভীরতম দীর্ঘশ্বাস। এই দীর্ঘ নিঃশ্বাসের বিকট শব্দ চুরমার করে দেয় ভালবাসার স্তম্ভকে।  কিন্তু তোমার দেওয়া আঘাত কে সে মেনে নেয়। কারন তুমি এক নির্ভেজাল সত্য, তোমার মুখোমুখি হতেই হবে।

প্রেমের শত সহস্র নক্ষত্রপুঞ্জের আলোক বর্তিকা আর চন্দ্র সূর্যের উজ্জ্বল দীপিকার মধ্যে বিরহ তুমি ঘনকালো মেঘের স্তূপ। আলো আর আঁধার নিয়েই তোমার খেলা।

সত্য সুন্দর, প্রেম সুন্দর। এই সুন্দরের মাঝে অসুন্দর মিশে আছে। প্রেম স্বর্গীয় সুধা। এই সুধা পান করেও আত্মা তৃপ্তি পায়না। বিরহের গ্লানিকর বিষ পানের জন্য ব্যাকুল থাকে।

তৃপ্ত না হওয়াতে বাধ্য হয় বিষ পান করতে। এই হলাহল জহর তাকে আকৃষ্ট করে জীবনের কঠিন সত্যকে জানার জন্য। বিরহের যন্ত্রনা প্রেমকে মর্যাদাপূর্ন করে দেয়। স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক গভীর হয়। প্রেমিক প্রেমিকা প্রেমের মূল্যায়ন করতে পারে বিরহের সান্নিধ্যে।

হায় বিরহ! তুমি সেতু গড়ে দাও প্রেমের মাঝে। তুমি শিক্ষা দিলে তোমার কঠিন অধ্যায়কে না জানলে সত্যের রশ্মি প্রেমের মাঝে বিকশিত হত না।



রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০

ভালবাসা

বন্ধুরা আমার, ভালবাসার প্রথম রেনু তোমাদের মাঝে ছড়িয়ে দিলাম। দেখতো সারাটা রজনী ধরে ভালবাসার অঞ্জলীকে গ্রহন করলাম। আমি যেন সদ্য স্নান করে উঠলাম দিবাকরের আলোর রশ্মি দিয়ে। আমার প্রতিটি অঙ্গে বনফুলের সুবাস ছড়ানো। আমি তারই সাথে মিশে গেলাম। আমার চোখের কাজল দিয়ে তোমাদের কাছে আমার প্রেম নিবেদন করলাম। বৃষ্টির ফোঁটা ফোঁটা জলে আমার হৃদয়ের অভিমানের কালো ব্যাথা ধুয়ে ফেললাম।

এরপর আমি পথ দিয়ে চলতে লাগলাম। আমার শাড়ীর আঁচলকে ছড়িয়ে দিলাম পথের মাঝে। তোমাদের ভালবাসাকে আমি আঁচল ভরে নিলাম। পথ চলতে চলতে এখন আমি ক্লান্ত। আমার হৃদয় মাঝে ভালবাসার সুর বেজে উঠল। আমি ঐ সুরের সাথে এক হয়ে গেলাম। বন্ধুরা ভালো থেকো। ভালবেসো এটাই আমার কামনা। 

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০

আবেগ

আবেগ তুমি কি? প্রশ্ন করি নিজের কাছে। আবেগের সংজ্ঞা কি? সারা রাত ভরা পূর্ণিমার উজ্জ্বল আলোর বিকিরণ ছড়ানো স্নিগ্ধ চন্দ্রের প্রথম চুম্বন নাকি সারা দিনের তেজস্বী সূর্যের অগ্নিময় আলোর আলিঙ্গন। এই আলিঙ্গন আর চুম্বনপ্রকৃতির আবেগ দ্বারা সৃষ্ট।

পৃথিবীর প্রথম মুকুল প্রকৃতির মাঝে প্রস্ফুটিত হয় আর তারই ফুলের রেণুর খেলা চলে মৌমাছির মধু গুঞ্জনে। মধু আহরণের যে খেলা সে খেলা চলে আবেগ মিশ্রিত পৃথিবীর উদ্যানে। তাই পৃথিবীর হাসি ছড়ানো থাকে আবেগ মাখানো গোলাপী ঠোঁটে। আবেগের জন্য পৃথিবীর সৃষ্টি।

মানব হৃদয়ের ভূবন আবেগ দ্বারা সৃষ্ট। তারই জন্য এই সাজ আর শয্যা। মহাস্রষ্টার সাথে সৃ‌ষ্টির যে মিলন মেলার খেলা তার পুরোটাই আবেগ। স্রষ্টার সান্নিধ্যে তার হৃদয়ে আবেগের ঝড় উঠে আর নিজেকে উজাড় করে দেয় মহাস্রষ্টার কাছে।

ঐ যে সুদূর শূন্য গগনে নীলাম্বরী শাড়ি পরে মর্ত্যের সবুজের সজীবতার সাথে জড়িয়ে আছে প্রকৃতির মাঝে। প্রণয়ের আবির মেখে ঢেউ বয়ে চলেছে। আর প্রণয়ের সুরের খেয়া বয়ে যাচ্ছে ধরনীর বুকে।

শূন্য আকাশে অগনিত নক্ষত্র প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছে আর পূর্ণিমার শশি পরিপূর্ণ যৌবনের আলো নিয়ে বাসর ঘরে প্রবেশ করে। মর্ত্য আর স্বর্গের এ কি বন্ধন! সমগ্র বিশ্বে প্রেমের লহড়ী চলে জল তরঙ্গে।রিনিঝিনি সুর বাজে ঝর্ণা ধারায়। বাতাসে মৃদু গুঞ্জন আর সবুজ ঘাসের গালিচায় শিশির কণা জলের আলপনা আঁকে। এ কি মাধুর্য! অভিমানি আবেগ ধরনীকে বর্ষার ঋতুতে বৃষ্টির ধারায় ভিজিয়ে ফেলে। আবার বৈশাখে কালো মেঘের ভেলায় চড়ে বৈশাখীর ঝড় ওঠে তার হৃদয় মাঝে। বসন্তে সে কৃষ্ণচূড়ার লাল আবির মেখে হাসি ছড়িয়ে দেয়। শরৎ এর আকাশ যেন ভালবাসার ভূমির কর্ষনের ছবি ফুটিয়ে তোলে। হেমন্তে সে আবেগ ভরা অভিমান নিয়ে ঝরে পড়ে। শতসহস্র বার ভালোবাসে আবেগকে। সেই যুগল স্রোতে ভাসতে থাকে অনাদি কাল পর্যন্ত।