মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০

আবেগ

আবেগ তুমি কি? প্রশ্ন করি নিজের কাছে। আবেগের সংজ্ঞা কি? সারা রাত ভরা পূর্ণিমার উজ্জ্বল আলোর বিকিরণ ছড়ানো স্নিগ্ধ চন্দ্রের প্রথম চুম্বন নাকি সারা দিনের তেজস্বী সূর্যের অগ্নিময় আলোর আলিঙ্গন। এই আলিঙ্গন আর চুম্বনপ্রকৃতির আবেগ দ্বারা সৃষ্ট।

পৃথিবীর প্রথম মুকুল প্রকৃতির মাঝে প্রস্ফুটিত হয় আর তারই ফুলের রেণুর খেলা চলে মৌমাছির মধু গুঞ্জনে। মধু আহরণের যে খেলা সে খেলা চলে আবেগ মিশ্রিত পৃথিবীর উদ্যানে। তাই পৃথিবীর হাসি ছড়ানো থাকে আবেগ মাখানো গোলাপী ঠোঁটে। আবেগের জন্য পৃথিবীর সৃষ্টি।

মানব হৃদয়ের ভূবন আবেগ দ্বারা সৃষ্ট। তারই জন্য এই সাজ আর শয্যা। মহাস্রষ্টার সাথে সৃ‌ষ্টির যে মিলন মেলার খেলা তার পুরোটাই আবেগ। স্রষ্টার সান্নিধ্যে তার হৃদয়ে আবেগের ঝড় উঠে আর নিজেকে উজাড় করে দেয় মহাস্রষ্টার কাছে।

ঐ যে সুদূর শূন্য গগনে নীলাম্বরী শাড়ি পরে মর্ত্যের সবুজের সজীবতার সাথে জড়িয়ে আছে প্রকৃতির মাঝে। প্রণয়ের আবির মেখে ঢেউ বয়ে চলেছে। আর প্রণয়ের সুরের খেয়া বয়ে যাচ্ছে ধরনীর বুকে।

শূন্য আকাশে অগনিত নক্ষত্র প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছে আর পূর্ণিমার শশি পরিপূর্ণ যৌবনের আলো নিয়ে বাসর ঘরে প্রবেশ করে। মর্ত্য আর স্বর্গের এ কি বন্ধন! সমগ্র বিশ্বে প্রেমের লহড়ী চলে জল তরঙ্গে।রিনিঝিনি সুর বাজে ঝর্ণা ধারায়। বাতাসে মৃদু গুঞ্জন আর সবুজ ঘাসের গালিচায় শিশির কণা জলের আলপনা আঁকে। এ কি মাধুর্য! অভিমানি আবেগ ধরনীকে বর্ষার ঋতুতে বৃষ্টির ধারায় ভিজিয়ে ফেলে। আবার বৈশাখে কালো মেঘের ভেলায় চড়ে বৈশাখীর ঝড় ওঠে তার হৃদয় মাঝে। বসন্তে সে কৃষ্ণচূড়ার লাল আবির মেখে হাসি ছড়িয়ে দেয়। শরৎ এর আকাশ যেন ভালবাসার ভূমির কর্ষনের ছবি ফুটিয়ে তোলে। হেমন্তে সে আবেগ ভরা অভিমান নিয়ে ঝরে পড়ে। শতসহস্র বার ভালোবাসে আবেগকে। সেই যুগল স্রোতে ভাসতে থাকে অনাদি কাল পর্যন্ত।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন