শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

সংসার

সংসার তুমি ভাসমান পদ্নপাতার ন্যায় বৈচিত্র্যময়। পদ্মাপাতার উপর শিশির বিন্দু যেমন পতিত হয়ে সূর্যের রশ্মিতে ঝলমলে মুক্তার ন্যায় বিকিরণের ছটা ছড়ায় তেমনি সংসার তার মায়াজালে মানব মানবীকে আকৃষ্ট  করে মানব সূচনার ব্যাপ্তি ঘটায়।

প্রেমহীনতা, অবহেলা, অবিশ্বাস, ঘৃণা, অত্যাচার, অনাচার, অবিচার, ব্যাভিচার, ক্ষমতার অপব্যবহার সংসারের পাতার উপরে স্যাতসেতে শ্যাওলা আর কাদার আচ্ছাদন ফেলে। তারপরও সংসার তোমাকে ভেসে থাকতে হয়। ভাসতে তাকে হবেই। তোমার আলিঙ্গন মানব মানবীকে এমনভাবে বেঁধে রেখেছে যেখান থেকে সে আর বের হতে পারে না।


সূর্য রশ্মির প্রখরতা মানব মানবীকে কর্মমুখর করে তোলে। আবার পড়ন্ত বিকালের সূর্য রশ্মি যখন অস্ত যায় তখন সংসার তার পসরা গ্রহণ করে নেয় মানব মানবীর কাছ থেকে। মানব মানবীকে কত শ্রম, কত সাধনায়, কত ত্যাগে এই পসরা সৃষ্টি করতে হয় সংসার তা বুঝে না। সংসার বুঝে শুধু দেওয়া নেওয়া।



মানব মানবী সংসার নামের পদ্নপাতার ভেলায় চড়ে কত ঝড়, ঝঞ্ঝা, প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে।মহাকালের আবর্তনে তাকে সরে যেতে হয়। নতুন এসে পুরাতনকে দখল করে নেয়। ফেলে দেয় পুরাতনকে। শুধু ফেলে না পুরাতনের শ্রমলব্ধ পসরা। সংসার এটাই তোমার রীতি। এভাবেই তুমি যুগ যুগ ধরে তোমার বৈঠা বেয়ে চলেছ। নেই তোমার ক্লান্তি, নেই কোন আফসোস, নেই কোন দুঃখ, নেই কোন আনন্দ। তুমি এক অসাধারণ তুমি, তাই তুমি সংসার।

বুধবার, ১৩ মে, ২০২০

হাতেখড়ি


কত ধূসর মরুভূমি, কত জরাজীর্ণ জনপদ বিকৃত জীবনের পদচিহ্ন, ঝড় ঝঞ্ঝা বিস্তৃত পথের প্রান্তে নিজেকে দেখবার সুযোগ পেলাম। নিজেকে বুঝতে চাইলাম কিন্তু অবুঝ মন আমাকে উপলব্ধি করতে দিচ্ছে না। সে বারবার মায়াজালে আমাকে আটকে ফেলার চেষ্টা করছে। আমাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

যেখানে আমি নিজেকে সদাই করে ফেলেছিলাম সেখানে আমাকে বারবার পিছু টানছে। এই পিছুটানই নিজেকে ভুলিয়ে রাখে। সময় আমাকে শেখালো আমি কতদিন আর অন্যের সাহায্য নিয়ে পৃথিবীর এই পথে চলতে থাকবো। আসলেই আমি নিজেকে বুঝতে চায়নি যে আমি এতদিন মেরুদন্ডহীন অবস্থায় আছি। আমি গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ হয়ে আছি। আমার গন্ডি যখন আমাকে নিয়ে বিদ্রুপ করলো তখনই নিজেকে যাচাই করবার সুযোগ পেলাম। এ তো আমার সবে মাত্র হাতেখড়ি।

অলঙ্কার

তোমার এত সৌন্দর্য যা সহজে মানব মানবীকে মুগ্ধ করে। আকৃষ্ট হয়ে পড়ে তোমার প্রতি। অলঙ্কার তোমার সৌন্দর্যের মূল্যায়ন বাহ্যিক সৌন্দর্য নিয়ে নয়। যাকে অলঙ্কার পরানো হল সে কতটুকু তোমাকে উপলব্ধি করলো?

উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ডিগ্রি, অনেক সার্টিফিকেট, অনেক বড় পদবী এগুলো সবই অলঙ্কার একজন মানুষের জীবনে। এই অলঙ্কার মূল্যহীন হয়ে পড়ে মনুষ্যত্বহীন জীবনযাত্রায়। যারা হীন স্বার্থের জন্য সত্য কে জলাঞ্জলি দিয়ে মিথ্যার বসতি করে তারা প্রমাণ করে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ লেখাপড়া, ঐ ডিগ্রী, ঐ সার্টিফিকেট সবকিছুই মূল্যহীন।

তাদের যে অলঙ্কার দেওয়া হয়েছিল সেটা পরিহাসের বিষয় হয়ে দাঁড়ালো।মানুষ বাহ্যিকভাবে বিচার করে অপরের মেকিটাকে। আসলে কিছুদিন সে রঙ ধারণ করে রাখলেও সত্য যখন বাড়ির হয়ে আসে, বিশ্ব বিবেক তখন তাকে ধিক্কার দেয়। যে অলঙ্কার মনুষ্যত্বের শোভা বর্ধন করে তা হচ্ছে উদারতা, সেবা ও মহানুভবতা। কথিত আছে

একদিন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তার মাকে বলেছিলেন 
'মা আমার বড় সাধ হইয়াছে তোমাকে তিনখানা অলঙ্কার পরায়। মা বলেছিলেন পুত্র তুমি যে আমাকে অলঙ্কার পরাতে চেয়েছো ওতেই আমার পরা হয়ে গিয়েছে। যদি তুমি অলঙ্কারের টাকা দিয়ে আমাদের গ্রামের দুস্থ মানুষের জন্য শীতের লেপ ক্রয় করে দাও তবে তাদের বড়ই উপকার হয়। এটাই হবে তোমার মায়ের জন্য বড় অলঙ্কার।'

প্রকৃতপক্ষে মানব হৃদয়ের ভিতরে  সততা,বিশ্বস্ততা মানবতা ও আত্নত্যাগের যে শিখা জ্বলে যা তাকে প্রকৃত মানুষ রূপে গড়ে তোলে আর সেটাই হচ্ছে তার অলঙ্কার।

মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২০

সুর-মহাসুর

আমার হৃদয় বীণায় সুর বেজে ওঠে সেই সুর মহাসুরের সাথে মিশে যায়। আমার পূজার অঞ্জলি ঐ মহাসুরের কাছে। আমি তাঁরই ভজনা করি, তাঁরই উপাসনা করি।গোটা বিশ্বের প্রতিটি মানব মানবীর হৃদয়ের দ্বারে দ্বারে আমার সুরের ঐকাতন পৌঁছে দিতে চাই।

আমার সুর বেসুর হয়ে যায় যখন দেখে হিংসা বিদ্বেষ অন্যায় অবিচার অনাচার। মানবতা তখন হ্রাস পেতে থাকে। আমি এক ছন্নছাড়া, না আছে স্বকীয়তা। আমি প্রতিহত করতে পারিনি যেমন পারিনি আমার মাতৃত্বের সুমধুর রাগিণী কে। শৈশব, কৈশোর, যৌবনের প্রতিটি ধারায় ধারায় যাকে সু্রের বন্ধনে আটকাতে গেলাম সে অসীম সুরের মাঝে বিলীন হয়ে গেল। আমি তাকে আজও খুঁজে বেরাই ঐ পাহাড়ের পাদদেশে। আমার দৃষ্টি আজ ও পর্যন্ত ঐ খানে ঘুরে ঘুরে বেড়ায়। মহাসুর আমাকে সান্তনা যোগায়।

আমার দৈহিক যন্ত্রনা আর হৃদয়ের ক্ষরণে যখন বুক ফেটে যেতে লাগলো অসীম আমাকে সাহস যোগাল। তাই আমি টিকে আছি। তাই আমি ভালবাসি আমার পৃথিবীকে। পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন যন্ত্রনাকে আমি আমার হৃদয়ের গভীর সুরের কাছে সমর্পণ করলাম। তখন থেকেই আমি ভেসে চলেছি মহাসুরের সাধনায়।



শুক্রবার, ১ মে, ২০২০

প্রেম

প্রেম তুমি কোথায়? আমি তোমায় খুঁজে পাইনা কেন? তুমি তো চলার পথের ছন্দ, তুমি তো পথের দিশা, তোমার প্রেমময় চাহনিতে পথ চলি। পথ চলার আনন্দ তুমি। তোমার আনন্দতেই আমি আনন্দিত। পার্থিব আর অপার্থিব এর মিলন মালার কন্ঠহার। তুমি যে রুধির ধারার ন্যায় গোপনীয় যোগাযোগ।


কেন তোমায় বুঝতে পারি না?  তবে কি আমি বিরহের ধূসর বিবর্ণ এর প্রতিমূর্তি? না প্রেম তা হয় না। তুমি ঝরে গেলে আবারো নতুন করে প্রস্ফুটিত হও। এ তোমার বৈশিষ্ট্য। প্রেম তুমি গোটা বিশ্বের মাঝে বিরাজ করছো। দেখছি তোমাকে মানবতার সেবায়। জাতি,ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে সেবা দিয়ে যাচ্ছ। কোন পার্থক্য নেই তোমার কাছে। সর্বকালের সর্বজাতির মধ্যে তুমি চলমান।

পৃথিবীর ধূসর মুহূর্তে তোমার প্রেমের রাগীণি বাঁজছে। তুমি ক্লান্ত হও না। এ প্রেম যে স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির বন্ধন।