বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সত্য মিথ্যার খেলা

সত্য তুমি কোথায়? তোমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি পৃথিবীর সব স্থানে। কিন্তু তোমার সেই উদ্ভাসিত আলোর কিরণ ছটা দেখতে পারছি না। হায় সত্য তুমি লুকিয়ে রেখেছো নিজেকে নাকি আমরা তোমাকে সরিয়ে রেখেছি? এই প্রশ্ন রাখছি বিশ্বের কাছে।

মিথ্যার বেসাতি নিয়ে আমরা পসরা সাজিয়ে রেখেছি। মিথ্যার এত জৌলুস, এত রং, এত তার বাজনা যা ভরিয়ে রেখেছে গোটা বিশ্বকে। তাই বিশ্বের মাঝে সত্যের ধ্বনি হুঙ্কার দিয়ে উঠছে না। এত জঞ্জাল, এত কাঁটা তাকে আবডাল করে ফেলেছে! কিভাবে তাকে সরানো যাবে জানি না। কারন বিবেক তো মিথ্যার মোড়কে আবৃত হয়ে আছে। 

হায়রে বিবেক! সবকিছু জলাঞ্জলি দিলে মিথ্যার কাছে। মিথ্যার বিষাক্ত আবরণ সত্যের প্রকাশভঙ্গি রূদ্ধ করে রেখেছে। 

হায় মিথ্যা! তোমার বিষাক্ত সিলমোহর ভেঙ্গে একদিন না একদিন সত্য তার স্বরূপে উন্মোচিত হবে। সত্যের আলোর ঝলকানিতে তোমার মেকি মুখোশ পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।



সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০

শিংওয়ালা ছাগল

বাবা এখন অনেক রাত । আমার ঘুম আসছে না। তোমাকে না পাওয়ার শূন্যতায় ব্যাথা পাই। বাবা সেই লোভী শিয়ালের গল্পটা মনে পড়ে যায়।

লোভী শিয়ালটা পথ চলতে চলতে বুড়ি, শাক, গরু, কৃষক সবাইকে খেয়ে ফেলে আর সে তার মস্ত বড় পেটটা দুলিয়ে দুলিয়ে মনের সুখে গান করতে থাকে- বুড়ি খেলাম, শাক খেলাম, কৃষক খেলাম, গরু খেলাম, আরও আরও খাব যা পাব। যখন ছাগল কে খাওয়ার পালা আসল, তখন ছাগল বুদ্ধি খাটিয়ে কামাল বাড়ি যেয়ে তার শিং দুটোতে ধার দিয়ে নিয়ে আসল। এরপর শিয়াল যখন তাকে খেতে গেল তখন ছাগল শিং দিয়ে শিয়ালের পেটটা ফুটিয়ে দিল আর বুড়ি, শাক, কৃষক, গরু সবাই বেঁচে বেরিয়ে আসল। আর লোভী শিয়ালটা চিরতরে ধ্বংস হয়ে গেল। সাহসী ছাগল কে  সবাই ধন্যবাদ জানাল। 

বাবা বর্তমান পৃথিবীর কদার্য লালসা ঐ লোভী শিয়ালের মত। কবে ঐ রকম সাহসী ছাগল আসবে পৃথিবী কে বাঁচাবার জন্য? পৃথিবীর নিঃশ্বাস রূদ্ধ হয়ে যাচ্ছে লোভের তাড়নায়। আর কতদিন? আর কতদিন? কবে আবির্ভাব হবে ঐ ছাগলের- সেই অপেক্ষায় রইলাম।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২০

বিরহ

বিরহ তুমি প্রেমের গভীর অন্তরালের সুকঠিন ধ্বনি। তুমি প্রেমের লীলার মাঝে ব্যাথা বঞ্চনার চোখের নোনা জলের বৃষ্টি। তুমি ব্যাথা বেদনার গভীরতম দীর্ঘশ্বাস। এই দীর্ঘ নিঃশ্বাসের বিকট শব্দ চুরমার করে দেয় ভালবাসার স্তম্ভকে।  কিন্তু তোমার দেওয়া আঘাত কে সে মেনে নেয়। কারন তুমি এক নির্ভেজাল সত্য, তোমার মুখোমুখি হতেই হবে।

প্রেমের শত সহস্র নক্ষত্রপুঞ্জের আলোক বর্তিকা আর চন্দ্র সূর্যের উজ্জ্বল দীপিকার মধ্যে বিরহ তুমি ঘনকালো মেঘের স্তূপ। আলো আর আঁধার নিয়েই তোমার খেলা।

সত্য সুন্দর, প্রেম সুন্দর। এই সুন্দরের মাঝে অসুন্দর মিশে আছে। প্রেম স্বর্গীয় সুধা। এই সুধা পান করেও আত্মা তৃপ্তি পায়না। বিরহের গ্লানিকর বিষ পানের জন্য ব্যাকুল থাকে।

তৃপ্ত না হওয়াতে বাধ্য হয় বিষ পান করতে। এই হলাহল জহর তাকে আকৃষ্ট করে জীবনের কঠিন সত্যকে জানার জন্য। বিরহের যন্ত্রনা প্রেমকে মর্যাদাপূর্ন করে দেয়। স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক গভীর হয়। প্রেমিক প্রেমিকা প্রেমের মূল্যায়ন করতে পারে বিরহের সান্নিধ্যে।

হায় বিরহ! তুমি সেতু গড়ে দাও প্রেমের মাঝে। তুমি শিক্ষা দিলে তোমার কঠিন অধ্যায়কে না জানলে সত্যের রশ্মি প্রেমের মাঝে বিকশিত হত না।



রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০

ভালবাসা

বন্ধুরা আমার, ভালবাসার প্রথম রেনু তোমাদের মাঝে ছড়িয়ে দিলাম। দেখতো সারাটা রজনী ধরে ভালবাসার অঞ্জলীকে গ্রহন করলাম। আমি যেন সদ্য স্নান করে উঠলাম দিবাকরের আলোর রশ্মি দিয়ে। আমার প্রতিটি অঙ্গে বনফুলের সুবাস ছড়ানো। আমি তারই সাথে মিশে গেলাম। আমার চোখের কাজল দিয়ে তোমাদের কাছে আমার প্রেম নিবেদন করলাম। বৃষ্টির ফোঁটা ফোঁটা জলে আমার হৃদয়ের অভিমানের কালো ব্যাথা ধুয়ে ফেললাম।

এরপর আমি পথ দিয়ে চলতে লাগলাম। আমার শাড়ীর আঁচলকে ছড়িয়ে দিলাম পথের মাঝে। তোমাদের ভালবাসাকে আমি আঁচল ভরে নিলাম। পথ চলতে চলতে এখন আমি ক্লান্ত। আমার হৃদয় মাঝে ভালবাসার সুর বেজে উঠল। আমি ঐ সুরের সাথে এক হয়ে গেলাম। বন্ধুরা ভালো থেকো। ভালবেসো এটাই আমার কামনা। 

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০

আবেগ

আবেগ তুমি কি? প্রশ্ন করি নিজের কাছে। আবেগের সংজ্ঞা কি? সারা রাত ভরা পূর্ণিমার উজ্জ্বল আলোর বিকিরণ ছড়ানো স্নিগ্ধ চন্দ্রের প্রথম চুম্বন নাকি সারা দিনের তেজস্বী সূর্যের অগ্নিময় আলোর আলিঙ্গন। এই আলিঙ্গন আর চুম্বনপ্রকৃতির আবেগ দ্বারা সৃষ্ট।

পৃথিবীর প্রথম মুকুল প্রকৃতির মাঝে প্রস্ফুটিত হয় আর তারই ফুলের রেণুর খেলা চলে মৌমাছির মধু গুঞ্জনে। মধু আহরণের যে খেলা সে খেলা চলে আবেগ মিশ্রিত পৃথিবীর উদ্যানে। তাই পৃথিবীর হাসি ছড়ানো থাকে আবেগ মাখানো গোলাপী ঠোঁটে। আবেগের জন্য পৃথিবীর সৃষ্টি।

মানব হৃদয়ের ভূবন আবেগ দ্বারা সৃষ্ট। তারই জন্য এই সাজ আর শয্যা। মহাস্রষ্টার সাথে সৃ‌ষ্টির যে মিলন মেলার খেলা তার পুরোটাই আবেগ। স্রষ্টার সান্নিধ্যে তার হৃদয়ে আবেগের ঝড় উঠে আর নিজেকে উজাড় করে দেয় মহাস্রষ্টার কাছে।

ঐ যে সুদূর শূন্য গগনে নীলাম্বরী শাড়ি পরে মর্ত্যের সবুজের সজীবতার সাথে জড়িয়ে আছে প্রকৃতির মাঝে। প্রণয়ের আবির মেখে ঢেউ বয়ে চলেছে। আর প্রণয়ের সুরের খেয়া বয়ে যাচ্ছে ধরনীর বুকে।

শূন্য আকাশে অগনিত নক্ষত্র প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছে আর পূর্ণিমার শশি পরিপূর্ণ যৌবনের আলো নিয়ে বাসর ঘরে প্রবেশ করে। মর্ত্য আর স্বর্গের এ কি বন্ধন! সমগ্র বিশ্বে প্রেমের লহড়ী চলে জল তরঙ্গে।রিনিঝিনি সুর বাজে ঝর্ণা ধারায়। বাতাসে মৃদু গুঞ্জন আর সবুজ ঘাসের গালিচায় শিশির কণা জলের আলপনা আঁকে। এ কি মাধুর্য! অভিমানি আবেগ ধরনীকে বর্ষার ঋতুতে বৃষ্টির ধারায় ভিজিয়ে ফেলে। আবার বৈশাখে কালো মেঘের ভেলায় চড়ে বৈশাখীর ঝড় ওঠে তার হৃদয় মাঝে। বসন্তে সে কৃষ্ণচূড়ার লাল আবির মেখে হাসি ছড়িয়ে দেয়। শরৎ এর আকাশ যেন ভালবাসার ভূমির কর্ষনের ছবি ফুটিয়ে তোলে। হেমন্তে সে আবেগ ভরা অভিমান নিয়ে ঝরে পড়ে। শতসহস্র বার ভালোবাসে আবেগকে। সেই যুগল স্রোতে ভাসতে থাকে অনাদি কাল পর্যন্ত।


সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২০

বড় দেরিতে

আমার চলার পথে এত কাটা যার জন্য আমার চরণ দুটো ক্ষত বিক্ষত হয়ে রয়েছে। এত কুয়াশাপূর্ণ পৃথিবী যার কোন কিছুই আমি দেখতে পারছিলাম না। আমার অক্ষমতায় পৃথিবী বিদ্রুপ করলো। আমি আমার পৃথিবীকে বুঝাতে চাইলাম কিন্তু সে কোন যুক্তি তর্ক মানলো না। সে আমাকে শত সহস্রবার দোষারোপ করলো। এটাই মনে হয় পৃথিবীর শরণ।

 
আমার নিস্তদ্ধতা এতই ভয়ঙ্কর সে যেন আমাকে গুড়িয়ে দিতে চাই। অথচ এই পা দুটো নিয়ে যখন আমি মায়ের গর্ভে ছিলাম মা তাকে সযত্নে আগলে রেখেছিল। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর যখন হাঁটি হাঁটি পা পা করে আমি হাঁটতে লাগলাম তখন শুধুই আছাড় খেলাম। চলার পথে মা বাবার স্নেহ পূর্ণ দৃষ্টি দিয়ে আমাকে সাহায্য করতে লাগল।

যখন বাবা মা তাদের ছাউনি থেকে সরিয়ে দিলো তখন আমি নিজেকে অনুধাবন করলাম কত বড় আর কত কঠিন পদক্ষেপ আমাকে পা রাখতে হবে। 

যে শ্বেত শুভ্র পা দুটো আলতা পরিহিত ছিল সেই পা দিয়ে চন্দ্র সূর্যর রশ্মি গোটা পৃথিবীকে আলোকিত করুক পৃথিবী আমাকে এটাই বুঝাতে চেষ্টা করছে।

যত কাঁটা আমার পায়ে ঢুকুক না কেন আমি যেন বিচলিত না হয়। আমার পায়ের নূপুরের ঝুনঝুন আওয়াজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে এটাই আমাকে বুঝতে হলো বড় দেরিতে।

কর্ম

আমার হাত দুটো অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এত কর্ম আর এত অকর্ম করেছে যার কোন হিসাব নেই। বসে বসে ভাবনা আমাকে পেয়ে বসেছে। নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে দেখছি কি গভীর সৌন্দর্য আর অসৌন্দর্য এই হাতের মাঝে খেলা করছে। আমার অনুভূতি তবে এতদিন কেন চুপ হয়েছিল? তাকে আমি বার বার প্রশ্ন করছি কেন সে এত ক্লান্ত। সে তার কর্মের ভার বহন করতে যেয়ে বিষন্ন হয়ে পড়েছে। 

এই হাত দুটো কোন সময়েই শূন্য ছিল না। যখন সে ভূমিষ্ঠ হলো দুটি হাত‌ই সোহাগ ভরা সততা, বিশ্বস্ততা আর নম্রতা নিয়ে পরিপূর্ণ ছিল। সে মনে করেছিল এইভাবে হাত দুটো পরস্পর বন্ধু হয়ে থাকবে। 

পৃথিবীর কদর্য স্পৃহায় বাম হস্ত লোভ লালসার খেলায় মত্ত হয়ে গেল। ডান হস্ত বাধা দিতে লাগলো কিন্তু কোন কথায় বাম হস্ত ভ্রুক্ষেপ করলো না। দুটো হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লো। ডান হস্ত তার ভাল কর্ম নিয়ে সরে দাঁড়ালো আর বাম হস্ত তার অকর্ম নিয়ে ম্লান হয়ে পড়লো। যে দুটো হাত ছিল একে অপরের পরিপূরক আজ তারা বিচ্ছিন্ন কর্মের জন্য।

সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২০

স্বার্থ সর্বনাশা স্বার্থ


মোলায়েম তৃণকে ভরিয়ে দেয় হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসার বিন্দু বিন্দু শিশির।এই পরিষ্কার জলের মত শিশিরের কারুকার্যে থাকে নবীন ঘাসের স্বচ্ছ সবুজতা আর থাকে নির্মল আকাশের নীলাভ অঞ্জলী মাখা স্বার্থ। এই স্বার্থকে সবাই স্বাগত জানায়। কিন্তু হীন জীবন চলার পথে এই স্বার্থ আরো হীন থেকে হীনতার দ্বারে এসে দাঁড়ায়।ধরনিকে করে তোলে কালো আর নোংরাময়।

হায়রে স্বার্থ পিতা-মাতার প্রথম প্রণয়ের অঞ্জলী মেখে যেমানব শিশু ধরনীর বুকে নিবাস গড়তে গিয়েছিলে  সেই শিশু বয়োঃবৃদ্ধির সাথে সাথে হয়ে উঠলো বিভীষিকাময়। এত চাওয়া, এত পাওয়া। কোনভাবেই সে তৃপ্তি পায় না।
চাওয়া পাওয়ার এত বড় কদার্য স্পৃহা গোটা বিশ্বকে কলঙ্কময় করে দিল। জীবন পাতার প্রতিটি অধ্যায়ে কালি লেপে দিল। বিশ্ব তার বিবেক হারিয়ে ফেললো।

স্বার্থ তুমি আসলেই সর্বনাশা। তোমার কোন জুড়ি নেই, আছে শুধু শোষন আর অযৌক্তিক শাসন। তুমি মহা সাইক্লোন, তুমি ভেঙে ফেল আদর্শের ভূষণ। তোমাকে নিয়ে লেখার ভাষা নেই। ভাষাহীন হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। ধূসর হয়ে পড়েছে জীবনের আলপনা।

শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২০

আমিত্ব

হে আমার আমিত্ব তোমাকে উপলব্ধি করে আমি বুঝতে পেরেছি আমি কতটায় নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে আছি। কি করবো বলো? আমার কাজল কালো চোখের কালো আঁচড়ে কত না জানা কথা জানালাম। কাজল কালির অক্ষরে শব্দ ছিল না, ছিল কেবল হৃদয়ের উত্তাল ঢেউ। এই ঢেউয়ের শব্দে আমার পৃথিবী আবৃত হয়ে আছে।

আমি এই পৃথিবীর বাসিন্দা। আমার অনুভূতিই আমার সম্পদ। এই সম্পদই হচ্ছে মূলধন। এই মূলধন এমনভাবে লুকিয়ে আছে যে তা কেউ দেখতে পায় না। যদি কেউ দেখতে পেত তাহলে সেটা পৃথিবীতে এক বিকট আওয়াজের সৃষ্টি করত। এই মূলধন দেখতে পান শুধু স্রষ্টা। সৃষ্টির এই মূলধনই হচ্ছে স্রষ্টার সান্নিধ্য।
হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে যে ঢেউ এর সৃষ্টি হয় সে ঢেউকে কেউ অবরূদ্ধ করতে পারে না। এ ঢেউ আদি থেকে অনন্ত কাল পর্যন্ত চলতে থাকে। এ চলার কোন বিরতি নেই।

এই আমিত্ব জীবন চলার পথে প্রথম ছন্দ। ছন্দের পতন হয় জীবন পাতার অযৌক্তিক কদর্য স্পৃহায়। এই সেই কদর্য স্পৃহা যা কলুষিত করে দেয় জীবন আঙিনাকে।

ধূলিকণা

হে ধূলিকণা! আমি তোমাকে দেখে অবাক হচ্ছি। পৃথিবীর বুকে কত স্পৃহা, কত পদাচরণ, কত আশা, আকাঙ্ক্ষা, ন্যায়, অন্যায়, দাম্ভিকতা, কত উদারতা, মানবতা, নিষ্ঠুরতা, অসহায়তা সবকিছুর মিশ্রণে তুমি মিশ্রিত হয়ে আছো। তোমার উপরে নীল আকাশ আর তুমি বিছিয়ে রেখেছো পৃথিবীর মহাসনদ।

এই মহাসনদের দায়িত্ব তোমার উপর। তুমি বারবার জানাচ্ছো এই পৃথিবীর যত কিছুই থাকুক না কেন সব কিছুকেই ধূলিকণার সাথে মিশে যেতে হয়। পৃথিবী অবুঝ- সে বুঝতে পারে না, বোঝাতে পারে না।

পৃথিবী এই মঞ্চে যে দোলনা ঝুলিয়ে রেখেছে সেই দোলনায় মানব মানবীরা দোদুল্যমান হয়ে ঝুলছে। দোলনাকে অসীম আকাশ ছুঁতে বলছে যেন বিশ্ব তাদের জয়ের প্রতিযোগিতায় হার না মানে। হায়রে অবাক মানব আত্মা, তোমার গ্লানিকর অধ্যায় গোটা বিশ্বকে পীড়িত করে ফেলেছে। তুমি জেনেও না জানার ভনিতা করে আছো। তোমার অহংকার, তোমার ঐশ্বর্য, প্রাচুর্য, তোমার দীনতা, হীনতা সব কিছুই ধরনীর বুকে ধূলা হয়ে মিশে যায় মহাকালের আবর্তনে। আর সাক্ষী হয়ে রয়ে যায় ঐ ধূলি যে কিনা পৃথিবীর ঊষালগ্ন থেকে বিরাজমান।



রবিবার, ২১ জুন, ২০২০

বার্ধক্য

বার্ধক্য, তুমি পড়ন্ত বিকালের অস্তগামী সূর্যের লাল আবির মাখানো নীলাকাশে ছড়িয়ে দেওয়া স্নিগ্ধ আলো। তোমার ঐ আলোই হচ্ছে রাতের অন্ধকারে দিশা। কে বলে তুমি অক্ষম? কি নেই তোমার?

বার্ধক্য, তোমার গাম্ভীর্য পরবর্তী প্রজন্মের যৌবনের হাসি আনন্দের মোড়কে ভরিয়ে রাখা চলার ছন্দ। পৃথিবী এই ছন্দের তালে তালে তাল মিলিয়ে চলে।

বার্ধক্য, তোমার অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মের  যৌবনের প্রথম পাতায় আঁচড় টেনে দেয়। তাই যৌবন চলতে থাকে তোমার অভিজ্ঞতার খেয়াতরী বয়ে‌ যেখানে সে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারে না। তোমার নির্দেশনা তাকে চলার পথে সাহায্য করে।

কে বলে তোমার গুরুত্ব নেই? তোমার গুরুত্বে বিকশিত হয় যৌবনের প্রস্ফুটিত আমেজ আর বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে যৌবনের ফুল ও ফল।আর এইভাবে বার্ধক্য তুমি চিরসবুজ হয়ে রয়েছ ধরণীর বুকে।

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

সংসার

সংসার তুমি ভাসমান পদ্নপাতার ন্যায় বৈচিত্র্যময়। পদ্মাপাতার উপর শিশির বিন্দু যেমন পতিত হয়ে সূর্যের রশ্মিতে ঝলমলে মুক্তার ন্যায় বিকিরণের ছটা ছড়ায় তেমনি সংসার তার মায়াজালে মানব মানবীকে আকৃষ্ট  করে মানব সূচনার ব্যাপ্তি ঘটায়।

প্রেমহীনতা, অবহেলা, অবিশ্বাস, ঘৃণা, অত্যাচার, অনাচার, অবিচার, ব্যাভিচার, ক্ষমতার অপব্যবহার সংসারের পাতার উপরে স্যাতসেতে শ্যাওলা আর কাদার আচ্ছাদন ফেলে। তারপরও সংসার তোমাকে ভেসে থাকতে হয়। ভাসতে তাকে হবেই। তোমার আলিঙ্গন মানব মানবীকে এমনভাবে বেঁধে রেখেছে যেখান থেকে সে আর বের হতে পারে না।


সূর্য রশ্মির প্রখরতা মানব মানবীকে কর্মমুখর করে তোলে। আবার পড়ন্ত বিকালের সূর্য রশ্মি যখন অস্ত যায় তখন সংসার তার পসরা গ্রহণ করে নেয় মানব মানবীর কাছ থেকে। মানব মানবীকে কত শ্রম, কত সাধনায়, কত ত্যাগে এই পসরা সৃষ্টি করতে হয় সংসার তা বুঝে না। সংসার বুঝে শুধু দেওয়া নেওয়া।



মানব মানবী সংসার নামের পদ্নপাতার ভেলায় চড়ে কত ঝড়, ঝঞ্ঝা, প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে।মহাকালের আবর্তনে তাকে সরে যেতে হয়। নতুন এসে পুরাতনকে দখল করে নেয়। ফেলে দেয় পুরাতনকে। শুধু ফেলে না পুরাতনের শ্রমলব্ধ পসরা। সংসার এটাই তোমার রীতি। এভাবেই তুমি যুগ যুগ ধরে তোমার বৈঠা বেয়ে চলেছ। নেই তোমার ক্লান্তি, নেই কোন আফসোস, নেই কোন দুঃখ, নেই কোন আনন্দ। তুমি এক অসাধারণ তুমি, তাই তুমি সংসার।

বুধবার, ১৩ মে, ২০২০

হাতেখড়ি


কত ধূসর মরুভূমি, কত জরাজীর্ণ জনপদ বিকৃত জীবনের পদচিহ্ন, ঝড় ঝঞ্ঝা বিস্তৃত পথের প্রান্তে নিজেকে দেখবার সুযোগ পেলাম। নিজেকে বুঝতে চাইলাম কিন্তু অবুঝ মন আমাকে উপলব্ধি করতে দিচ্ছে না। সে বারবার মায়াজালে আমাকে আটকে ফেলার চেষ্টা করছে। আমাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

যেখানে আমি নিজেকে সদাই করে ফেলেছিলাম সেখানে আমাকে বারবার পিছু টানছে। এই পিছুটানই নিজেকে ভুলিয়ে রাখে। সময় আমাকে শেখালো আমি কতদিন আর অন্যের সাহায্য নিয়ে পৃথিবীর এই পথে চলতে থাকবো। আসলেই আমি নিজেকে বুঝতে চায়নি যে আমি এতদিন মেরুদন্ডহীন অবস্থায় আছি। আমি গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ হয়ে আছি। আমার গন্ডি যখন আমাকে নিয়ে বিদ্রুপ করলো তখনই নিজেকে যাচাই করবার সুযোগ পেলাম। এ তো আমার সবে মাত্র হাতেখড়ি।

অলঙ্কার

তোমার এত সৌন্দর্য যা সহজে মানব মানবীকে মুগ্ধ করে। আকৃষ্ট হয়ে পড়ে তোমার প্রতি। অলঙ্কার তোমার সৌন্দর্যের মূল্যায়ন বাহ্যিক সৌন্দর্য নিয়ে নয়। যাকে অলঙ্কার পরানো হল সে কতটুকু তোমাকে উপলব্ধি করলো?

উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ডিগ্রি, অনেক সার্টিফিকেট, অনেক বড় পদবী এগুলো সবই অলঙ্কার একজন মানুষের জীবনে। এই অলঙ্কার মূল্যহীন হয়ে পড়ে মনুষ্যত্বহীন জীবনযাত্রায়। যারা হীন স্বার্থের জন্য সত্য কে জলাঞ্জলি দিয়ে মিথ্যার বসতি করে তারা প্রমাণ করে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ লেখাপড়া, ঐ ডিগ্রী, ঐ সার্টিফিকেট সবকিছুই মূল্যহীন।

তাদের যে অলঙ্কার দেওয়া হয়েছিল সেটা পরিহাসের বিষয় হয়ে দাঁড়ালো।মানুষ বাহ্যিকভাবে বিচার করে অপরের মেকিটাকে। আসলে কিছুদিন সে রঙ ধারণ করে রাখলেও সত্য যখন বাড়ির হয়ে আসে, বিশ্ব বিবেক তখন তাকে ধিক্কার দেয়। যে অলঙ্কার মনুষ্যত্বের শোভা বর্ধন করে তা হচ্ছে উদারতা, সেবা ও মহানুভবতা। কথিত আছে

একদিন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তার মাকে বলেছিলেন 
'মা আমার বড় সাধ হইয়াছে তোমাকে তিনখানা অলঙ্কার পরায়। মা বলেছিলেন পুত্র তুমি যে আমাকে অলঙ্কার পরাতে চেয়েছো ওতেই আমার পরা হয়ে গিয়েছে। যদি তুমি অলঙ্কারের টাকা দিয়ে আমাদের গ্রামের দুস্থ মানুষের জন্য শীতের লেপ ক্রয় করে দাও তবে তাদের বড়ই উপকার হয়। এটাই হবে তোমার মায়ের জন্য বড় অলঙ্কার।'

প্রকৃতপক্ষে মানব হৃদয়ের ভিতরে  সততা,বিশ্বস্ততা মানবতা ও আত্নত্যাগের যে শিখা জ্বলে যা তাকে প্রকৃত মানুষ রূপে গড়ে তোলে আর সেটাই হচ্ছে তার অলঙ্কার।

মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২০

সুর-মহাসুর

আমার হৃদয় বীণায় সুর বেজে ওঠে সেই সুর মহাসুরের সাথে মিশে যায়। আমার পূজার অঞ্জলি ঐ মহাসুরের কাছে। আমি তাঁরই ভজনা করি, তাঁরই উপাসনা করি।গোটা বিশ্বের প্রতিটি মানব মানবীর হৃদয়ের দ্বারে দ্বারে আমার সুরের ঐকাতন পৌঁছে দিতে চাই।

আমার সুর বেসুর হয়ে যায় যখন দেখে হিংসা বিদ্বেষ অন্যায় অবিচার অনাচার। মানবতা তখন হ্রাস পেতে থাকে। আমি এক ছন্নছাড়া, না আছে স্বকীয়তা। আমি প্রতিহত করতে পারিনি যেমন পারিনি আমার মাতৃত্বের সুমধুর রাগিণী কে। শৈশব, কৈশোর, যৌবনের প্রতিটি ধারায় ধারায় যাকে সু্রের বন্ধনে আটকাতে গেলাম সে অসীম সুরের মাঝে বিলীন হয়ে গেল। আমি তাকে আজও খুঁজে বেরাই ঐ পাহাড়ের পাদদেশে। আমার দৃষ্টি আজ ও পর্যন্ত ঐ খানে ঘুরে ঘুরে বেড়ায়। মহাসুর আমাকে সান্তনা যোগায়।

আমার দৈহিক যন্ত্রনা আর হৃদয়ের ক্ষরণে যখন বুক ফেটে যেতে লাগলো অসীম আমাকে সাহস যোগাল। তাই আমি টিকে আছি। তাই আমি ভালবাসি আমার পৃথিবীকে। পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন যন্ত্রনাকে আমি আমার হৃদয়ের গভীর সুরের কাছে সমর্পণ করলাম। তখন থেকেই আমি ভেসে চলেছি মহাসুরের সাধনায়।



শুক্রবার, ১ মে, ২০২০

প্রেম

প্রেম তুমি কোথায়? আমি তোমায় খুঁজে পাইনা কেন? তুমি তো চলার পথের ছন্দ, তুমি তো পথের দিশা, তোমার প্রেমময় চাহনিতে পথ চলি। পথ চলার আনন্দ তুমি। তোমার আনন্দতেই আমি আনন্দিত। পার্থিব আর অপার্থিব এর মিলন মালার কন্ঠহার। তুমি যে রুধির ধারার ন্যায় গোপনীয় যোগাযোগ।


কেন তোমায় বুঝতে পারি না?  তবে কি আমি বিরহের ধূসর বিবর্ণ এর প্রতিমূর্তি? না প্রেম তা হয় না। তুমি ঝরে গেলে আবারো নতুন করে প্রস্ফুটিত হও। এ তোমার বৈশিষ্ট্য। প্রেম তুমি গোটা বিশ্বের মাঝে বিরাজ করছো। দেখছি তোমাকে মানবতার সেবায়। জাতি,ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে সেবা দিয়ে যাচ্ছ। কোন পার্থক্য নেই তোমার কাছে। সর্বকালের সর্বজাতির মধ্যে তুমি চলমান।

পৃথিবীর ধূসর মুহূর্তে তোমার প্রেমের রাগীণি বাঁজছে। তুমি ক্লান্ত হও না। এ প্রেম যে স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির বন্ধন।

রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২০

অপমান

আমার অপমানটা আমার মনে কি কোন দাগ কেটেছে? আমি তা নিজেও জানিনা। এই না জানাটা আমার দুর্বলতা আর আমার অক্ষমতা সেটা ভালভাবেই জানি। হয়তো প্রশ্ন আসতে পারে তবে কেন আমি এটা নীরবে সহ্য করে গেলাম। ঐ যে বললাম এতটা নগ্ন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি তা বলার কোন ভাষা নেই।

আমার অপমানটা এমনি - আমার স্বচ্ছ আকাশের মধ্যে কালো মেঘের রেখা।ঐ রেখা এতটাই গভীর যে আমি তাকে সরিয়ে ফেলতে পারলাম না। তা যেন শত সহস্র অপমান নিয়ে আরো গভীর হতে লাগলো। আমি এখন অনেকটাই দিশেহারা। আমার কোন ঠিকানা নেই।না আছে কোন নিবাস। আমি যেখানে থাকি সেখানে আমি থাকি না। আমার আমিত্ব অনেক দূরে হারিয়ে গেছে। যেখানে আমার আমিত্বের কোন মর্যাদা নেই, সেখানে আমার কি মূল্য? আমি এক মূল্যহীন আমি।

আমার অপমানের নূপুরের ধ্বনি আমার হৃদয়ের শত সহস্র শিরা-উপশিরায় ভয়ংকর আওয়াজ সৃষ্টি করে। অথচ শৈশবে এবং কৈশোরে এমন একদিন ছিল তা আমার আলতা পরা শ্বেত শুভ্র পায়ে, চন্দ্র-সূ‌‌র্য ঝলকানিতে আমার পায়ের নিষ্পাপ নূপুরের ছন্দ তুলতো। সেই ছন্দে আমার পৃথিবী মুখরিত হতো।কত কি স্বপ্ন দেখতো!আজ আমি স্বপ্ন দেখি না। আমি শুধু দেখতে পায় অপমানের ক্ষতটা।